Search

    Language Settings
    Select Website Language

    GDPR Compliance

    We use cookies to ensure you get the best experience on our website. By continuing to use our site, you accept our use of cookies, Privacy Policy, and Terms of Service.

    dailyadda
    dailyadda

    মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে ফুসফুসের সুরক্ষা সম্ভব, দাবি পতঞ্জলির ; অণুবীক্ষণ পরীক্ষা কী বলছে

    3 days ago

    স্বাস্থ্য বিষয়ক খবর

    আজকাল প্লাস্টিক সর্বত্র। যে বোতল থেকে আপনি জল খান, আপনার বাচ্চারা যে প্যাকেট থেকে চিপস খায়, এমনকী দুধের প্যাকেট, ওষুধের মোড়ক এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বেশিরভাগ জিনিসপত্র - এই প্লাস্টিক আর বাইরের পৃথিবীতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মাইক্রোপ্লাস্টিকের আকারে আমাদের শরীরে প্রবেশ করেছে।

    মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলি অত্যন্ত ছোট প্লাস্টিকের কণা যা ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট - কখনও কখনও ১০ মাইক্রনের চেয়েও ছোট। এক মিলিমিটারে ১০০০ মাইক্রন থাকে এবং যদি আমরা সহজ ভাষায় বুঝি, তবে এই কণাগুলি একটি সরিষার বীজের চেয়েও ছোট। আজ, মাইক্রোপ্লাস্টিক পৃথিবীর প্রতিটি কোণে পাওয়া যায় - এভারেস্টের উচ্চতা থেকে সমুদ্রের গভীরতা পর্যন্ত।

    এখন এটি আমাদের শরীরের ভিতরেও পৌঁছে গিয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের রক্ত, প্লাজমা এবং এমনকী গর্ভবতী মহিলাদের অ্যামনিওটিক ফ্লুইডেও (জরায়ু তরল) পাওয়া গেছে। একটি গবেষণা অনুসারে, আজকের একজন সাধারণ মানুষ প্রতি সপ্তাহে একটি ক্রেডিট কার্ডের সমতুল্য মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছেন - শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্য বা জলের মাধ্যমে।

    ফুসফুসের উপর প্রভাব: মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে ফাইব্রোসিস

    শরীরে প্রবেশ করার পরে, মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলি বিভিন্ন ধরণের রোগের জন্ম দেয়, বিশেষ করে ফুসফুসের উপর প্রভাব ফেলে। এই কণাগুলি শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে এবং ফুসফুসের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। এর ফলে ফাইব্রোসিসের মত অবস্থা তৈরি হয়, যেখানে ফুসফুসের কোষগুলি শক্ত হয়ে যায় এবং ফুসফুস সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

    শ্বাসতন্ত্রের গঠন ও কাজ

    শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গগুলি হল: নাক, মুখ, গলা, কণ্ঠনালী, শ্বাসনালী এবং ফুসফুস। যখন আমরা শ্বাস নিই, তখন বাতাস নাক ও মুখ দিয়ে যায়, তারপর গলা হয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং একেবারে নীচে অবস্থিত অ্যালভিওলাইতে পৌঁছায়। এখানেই অক্সিজেনের আদান-প্রদান ঘটে। আপনি জেনে অবাক হবেন যে আমাদের শ্বাসতন্ত্র প্রায় ২৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যার মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরের প্রতিটি অংশে পৌঁছায়।

    পতঞ্জলি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা: ব্রঙ্কোম

    ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি নামকরা গবেষণা পত্রে যখন প্রকাশ করা হয়েছিল যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ফুসফুসে পৌঁছেছে, তখন পতঞ্জলি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে কাজ শুরু করেন। এই গবেষণাটি ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং এক বছরের বেশি গভীর অধ্যয়নের পরে, বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে আয়ুর্বেদের সাহায্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব কমানো যেতে পারে। ব্রঙ্কোম একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ যা ফুসফুস পরিষ্কার এবং শক্তিশালী করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

    গবেষণা প্রক্রিয়া এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

    এই গবেষণায়, প্রায় ৮৮টি ইঁদুরের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করানো হয়েছিল। এর পরে, তাদের ব্রঙ্কোম ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাদের শ্বাসতন্ত্রের উপর এর কী প্রভাব পড়েছিল তা জানার জন্য, Flexivent System নামক একটি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, যা শ্বাসতন্ত্রের কার্যকারিতা পরিমাপ করতে সক্ষম।

    গবেষণায় দেখা গেছে যে ব্রঙ্কোম ইঁদুরগুলির ফুসফুসের কার্যকারিতা ডোজ-নির্ভর পদ্ধতিতে পুনরুদ্ধার করেছে। এর মানে হল, যত বেশি ব্রঙ্কোম দেওয়া হয়েছিল, তত বেশি উন্নতি দেখা গেছে।

    আণুবীক্ষণিক পরীক্ষা কী বলছে?

    শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ বোঝার জন্য, BALF (ব্রঙ্কোআলভিওলার লাভেজ ফ্লুইড) নামক একটি কৌশল ব্যবহার করে ইঁদুরের ফুসফুস থেকে তরল সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং পরীক্ষা করা হয়েছিল। এতে দেখা গেছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে শ্বেত রক্তকণিকা, নিউট্রোফিল এবং লিম্ফোসাইটের মতো রোগ প্রতিরোধক কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ব্রঙ্কোম ব্যবহারের ফলে এই সমস্ত কোষের সংখ্যা ডোজ-নির্ভর পদ্ধতিতে হ্রাস পেয়েছে। শুধু তাই নয়, IL-6, IL-8 এবং TNF-আলফার মতো প্রদাহ-সম্পর্কিত জিনের মাত্রাও ব্রঙ্কোম সেবনের সাথে হ্রাস পেয়েছে।

    হিস্টোপ্যাথলজিতেও স্পষ্ট পার্থক্য

    ফুসফুসের টিস্যু পরীক্ষার (হিস্টোপ্যাথলজি) মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়েছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শ্বাসনালীগুলি ব্রঙ্কোম ব্যবহারের ফলে আগের মতো হয়ে গেছে। ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা, শ্বাস ছাড়ার সময় চাপ এবং বায়ুপ্রবাহের গতি-র মতো প্যারামিটারগুলিতেও উন্নতি দেখা গেছে। THP-1 কোষের (মানব-ভিত্তিক সেল লাইন) উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও ব্রঙ্কোমের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে এবং ডোজ-নির্ভর প্রভাব দেখা গেছে।

    উপসংহার: আয়ুর্বেদের মাধ্যমে আধুনিক সংকটের সমাধান

    আজ, যখন আমরা মাইক্রোপ্লাস্টিক দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং যখন এটি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে রোগের জন্ম দিচ্ছে, সেই সময়ে ব্রঙ্কোমের মতো আয়ুর্বেদিক ওষুধ একটি আশার আলো হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।

    এই গবেষণাটি কেবল আয়ুর্বেদের বৈজ্ঞানিক প্রকৃতি নিশ্চিত করে না, বরং এটি দেখায় যে যদি একাগ্রতা এবং গবেষণার মাধ্যমে প্রচেষ্টা করা হয়, তবে প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি আধুনিক সমস্যার সমাধান হতে পারে।

    ডিসক্লেমার: এটি একটি স্পনসরড প্রতিবেদন। ABP Network Pvt. Ltd. এবং/অথবা ABP Live এর বিষয়বস্তু এবং/অথবা এখানে প্রকাশিত মতামত সমর্থন করে না। সমস্ত তথ্য যেমন আছে তেমন ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। এই তথ্য কোনওভাবেই চিকিৎসা পরামর্শ বা কেনার প্রস্তাব দেয় না। এই ধরনের কোনও ক্রয়-বিক্রয়ের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা / স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পেশাদারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    Click here to Read More
    Previous Article
    পতঞ্জলি দিব্য হারবাল পেয় : আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ২৮টি ভেষজের মিশ্রণ
    Next Article
    নাতির বিয়েতে গান গাইলেন কোকিলাবেন, আম্বানি পরিবারের ভাইরাল ভিডিওটি হৃদয় জিতল নেটিজ়েনদের

    Related ব্যবসা-বাণিজ্য Updates:

    Are you sure? You want to delete this comment..! Remove Cancel

    Comments (0)

      Leave a comment