Amla Seed Benefits: টক-নোনতা স্বাদযুক্ত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চমৎকার ক্ষমতার জন্য পরিচিত আমলকীর কথা সকলেই শুনেছেন। এটি ত্বক, চুল, হজম এবং হার্টের জন্যও উপকারী। আয়ুর্বেদে এটিকে 'অমৃতফল' বলে উল্লেখ করা হয়। আমরা সবাই জানি যে আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি (Vitamin C) থাকে। এর বৈশিষ্ট্য চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা এবং অষ্টাঙ্গ হৃদয়মের মতো আয়ুর্বেদিক গ্রন্থে বর্ণিত আছে।
কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে এর বীজ, যা সাধারণত অকেজো মনে করে ফেলে দেওয়া হয়,তা আসলে কতটা মূল্যবান হতে পারে?
সম্মানীয় স্বামী রামদেবজি এবং শ্রদ্ধেয় আচার্য বালকৃষ্ণজি-এর নির্দেশনায় পতঞ্জলি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে আমলকীর বীজেরও উল্লেখযোগ্য ঔষধি গুণ রয়েছে। এই গবেষণা এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই অধ্যয়নের মাধ্যমে গবেষকরা আমলকীর বীজ থেকে নিষ্কাশিত তেল রোগ প্রতিরোধের জন্য কার্যকর কি না তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। এই গবেষণায় সুপারক্রিটিক্যাল ফ্লুইড এক্সট্রাকশন (SCFE) নামক একটি নতুন কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিবেশ-বান্ধব নিষ্কাশন পদ্ধতি
এটি একটি আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব কৌশল, এতে কোনও ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রাবক ব্যবহার করা হয় না। ঐতিহ্যবাহী তেল নিষ্কাশন পদ্ধতিতে প্রায়শই ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা কেবল তেলের গুণমান হ্রাস করে না, বরং পরিবেশের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্য়দিকে, এই পদ্ধতিতে পরিবেশের কোনও ক্ষতি হয় না। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) ব্যবহারের পরে সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করা হয়, যা এটিকে একটি জিরো-ওয়েস্ট প্রযুক্তি করে তোলে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে নিষ্কাশিত তেল সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ থাকে এবং এর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
যখন এই কৌশল ব্যবহার করে নিষ্কাশিত তেলের উপর গবেষণা করা হয়েছিল, এর ফলাফল ছিল আশ্চর্যজনক। প্রথমত, এটি দুটি ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়তে পারে: ই. কোলাই, যা বমি, ডায়রিয়া এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সংক্রমণ ঘটায় এবং কে. নিউমোনিয়া, যা নিউমোনিয়া এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের জন্য দায়ী। এই দুই ব্যাকটেরিয়া তাদের চারপাশে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক আঠালো স্তর তৈরি করে, যাকে বলা হয় বায়োফিল্ম।
এইসব ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক প্রায়ই ব্যর্থ হয়
এই বায়োফিল্ম এতটাই শক্তিশালী যে অ্যান্টিবায়োটিকও এর বিরুদ্ধে কাজ করতে ব্যর্থ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে আমলকীর বীজের তেল এই প্রতিরক্ষামূলক স্তরটি ভেঙে দেয়, যা ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরক্ষা প্রাচীরে কার্যকরভাবে প্রবেশ করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই তেল মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
আমেস অ্যাসে পরীক্ষার (Ames Assay Test) মাধ্যমে আরও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এই তেল জিনের কোনও ক্ষতি করে না অর্থাৎ এটি বিষাক্ত এবং ক্ষতিকারক নয়। আরেকটি গবেষণায় পি. এরুগিনোসা-এর বিরুদ্ধে তেলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি চোখ, কান, ত্বক এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের জন্য দায়ী একটি ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই ব্যাকটেরিয়াকে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধক হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে, যার অর্থ প্রচলিত ওষুধগুলির এটির উপর সামান্য বা কোনো প্রভাবই নেই।
এই তেলে উপস্থিত লিনোলেনিক অ্যাসিড নামক একটি নির্দিষ্ট ফ্যাটি অ্যাসিডকে ব্যাকটেরিয়ার কোরাম সেন্সিং প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে দেখা গেছে। কোরাম সেন্সিং হল ব্যাকটেরিয়াদের কার্যকলাপে ব্যবহৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা। যখন এই যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটে, তখন ব্যাকটেরিয়ার শক্তি এবং কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
সি. এলিগানস নামক একটি মডেল জীবের উপরও এই তেল পরীক্ষা করা হয়, যা মানুষের সাথে এর জৈবিক সাদৃশ্যের কারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই জীবগুলিকে প্রথমে পি. এরুগিনোসা দ্বারা সংক্রামিত করা হয়েছিল, যার ফলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর আমলকীর বীজের তেল প্রয়োগ করা হলে একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।
এর ফলে এই জীবগুলির আয়ু বেড়েছে, তাদের কার্যকলাপের মাত্রা উন্নত হয়েছে, তারা স্বাস্থ্যকর হয়েছে এবং তাদের প্রজনন ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পতঞ্জলি গবেষণা ইনস্টিটিউটের দুই গবেষণা এলসেভিয়ার দ্বারা প্রকাশিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল অ্যাপ্লাইড ফুড রিসার্চ-এ প্রকাশিত হয়। এটিই প্রথমবার যে পতঞ্জলির দুটি গবেষণা এই জার্নালের একই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এই কৃতিত্ব কেবল পতঞ্জলির নয়, ভারত এবং আয়ুর্বেদিক বিজ্ঞানের জন্যও এটি গর্বের বিষয়।
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতা
এখন যখন বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের সীমাবদ্ধতা ক্রমে বাড়ছে, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই গবেষণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান ওষুধে আর প্রতিক্রিয়া দেয় না। যার ফলে বিকল্প সমাধানের প্রয়োজন গড়ে উঠেছে। এই গবেষণায় একটি নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা পরীক্ষায় সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রমাণিত হয়েছে। আমলকীর বীজের তেলের বায়োফিল্ম অপসারণের ক্ষমতা এটিকে আরও কার্যকর সমাধান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এখন যেহেতু এটা প্রমাণিত যে আমলকীর বীজের তেলে ক্ষতিকারক অণুজীবের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে, তাই অনেক ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ত্বক সংক্রমণ, চুল পড়া বা ব্রণর চিকিৎসার জন্য নতুন ওষুধ বা ক্রিম তৈরি করা যেতে পারে। এই তেল ভেষজ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল পণ্য যেমন ভেষজ স্যানিটাইজার বা সাবানেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও, ভবিষ্যতে মানবদেহের উপর এর প্রভাব আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা যেতে পারে।
আমলকীর বীজ নিয়ে এই গবেষণা শুধু একটি বৈজ্ঞানিক অর্জন নয়, চিন্তাভাবনার একটি পরিবর্তনও বটে। এই সময়ে যখন বিশ্ব রাসায়নিক-ভিত্তিক ওষুধের দিকে ঝুঁকছে, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে পতঞ্জলি প্রমাণ করেছে যে সবচেয়ে বড় সমাধান আমাদের চারপাশের প্রাকৃতিক সম্পদগুলির মধ্যে নিহিত। এটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হওয়া আমাদের অজ্ঞতা। এই অজ্ঞতা কেবল কৌতূহল নিরসন করে এবং গভীরতর উপলব্ধি অর্জনের মাধ্যমেই দূর করা যেতে পারে।
আমলকীর বীজ, যা একসময় মূল্যহীন বলে বিবেচনা করা হত এবং ফেলে দেওয়া হত, তা এখন বিজ্ঞানের চোখে অমূল্য হয়ে উঠেছে। পতঞ্জলির বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে ঐতিহ্য এবং বিজ্ঞান যখন একসঙ্গে চলে, তখন একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। এই গবেষণা ভারতের বৈজ্ঞানিক যাত্রার প্রতীক, যা প্রকৃতি, ঐতিহ্য এবং উদ্ভাবনকে সংযুক্ত করে। এটি সেই পুরনো বিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করে যা বলে, “প্রকৃতিই সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগার, এবং প্রতিটি উদ্ভিদই ঔষধ।”
সুতরাং, আপনি যখন পরেরবার আমলকী খাবেন, তখন এর বীজকে অকেজো মনে করবেন না, কারণ এখন এটা প্রমাণিত যে এতে স্বাস্থ্য এবং বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ রয়েছে।
(ডিসক্লেমার: এটি একটি স্পনসর্ড আর্টিকেল। ABP Network Pvt. Ltd. এবং/অথবা ABP Live এখানে প্রকাশিত মতামতকে সমর্থন/সাবস্ক্রাইব করে না। এই তথ্য কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ বা কেনার প্রস্তাব দেয় না। এই ধরনের কিছু কেনাকাটার আগে একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা/ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। পাঠকের বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)
Previous Article
Cat Facts: বাড়ির বিড়াল এই ভঙ্গিতে ঘুমায়? জেনে নিন নেপথ্যকারণ
Next Article
সাধারণ সর্দি নয়! এই ধরনের অসুবিধা হলেই সতর্ক থাকুন, ফুসফুসের ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে